নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে ইয়াশ আবহাওয়া খবর : আবহাওয়া খবর :News18 Bangla liveNews18 Bangla

নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে ইয়াশ, কলকাতা সহ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের আজকের আবহাওয়া সম্পর্কিত বিস্তারিত খবরা-খবর –

নিউজ-বাংলা ডেস্ক :- বুধবার রাতের মধ্যেই ঘূর্ণিঝড় ইয়াস নিজের শক্তি হারিয়ে ফেলবে এমন পূর্বাভাস দিলো আবহাওয়া দপ্তর।সোমবার বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় নিজের শক্তি বৃদ্ধি করে ধীরে ধীরে বাংলায় বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ ভালো রকমের ক্ষতি করেছে।বুধবার নির্ধারিত সময়ের আগেই ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ে ওড়িশার ওপর বাংলা একদম কান ঘেঁষে বেরিয়ে যায় এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়।

আবহাওয়া খবর :News18 Bangla live


ঝড় ওঠার আগেই দীঘা উপকূল সংলগ্ন ভর্তি অঞ্চল গুলির প্রায় জলমগ্ন হয়ে গিয়েছে। বাংলার উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বাঁধ ভেঙে বিশাল বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। আটকা পড়ে গেছে অনেক মানুষ। তাদের উদ্ধারকার্য শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে।উড়িষ্যার বেশ কিছু অঞ্চল ইয়াসের তাণ্ডবের ফলে আপাতত জলমগ্ন হয়ে আছে। প্রায় পাঁচ ঘন্টা তাণ্ডব চালায় ইয়াশ তারপর আস্তে আস্তে তা স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসে এবং ধীরে ধীরে নিজস্ব শক্তি ক্ষয় করতে থাকে।

আবহাওয়া খবর :News18 Bangla live

আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন যে, ইয়াসের তুলনায় আমফান অনেকটাই আলাদা ছিল। গত বছর সাগরেই ঘূর্ণিঝড়  আমফান সাইক্লোনে পরিণত হয়ে, প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল পুরো তছনছ করে দিয়েছিল ঘূর্ণিঝড় আমফান। কিন্তু জানা গিয়েছে, ইয়াসের ‘চোখ’ই তৈরি হয়নি এবং এই ঘূর্ণিঝড় দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে কিছুটা হেলে ছিল। তবে এই শক্তি নিয়েই ইয়াসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ১৩০-১৪০ কিমি, যা আমফানের থেকে অনেকটাই কম।

আবহাওয়া দফতর(weather office) জানিয়েছে এদিন কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় আকাশ মেঘলা থাকবে। মাঝে মধ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। এবং কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির আশপাশে থাকতে পারে।

গত দিন সকালে আবহাওয়া  দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, ২৬ মে রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ ইয়াস গতি হারিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। সেই সময় তা ছিল দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এবং সংলগ্ন এলাকার ওপরে। পরবর্তী সময়ে তা আরও উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বিহার ও উত্তর প্রদেশের উপর আছড়ে পড়ে এবং ১২ ঘন্টায় নিম্নচাপে পরিণত হয়। ফলে ইয়াসের গত সকালে গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ৫৫ কিমি।

আবহাওয়া খবর :News18 Bangla live


বিভিন্ন সময়ে আবহাওয়া দফতরের তরফে বৃষ্টির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। এইসব জেলাগুলির মধ্যে রয়েছে কলকাতা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ। গতদিন আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, সকাল ৮.১২ নাগাদ কালবৈশাখী বয়ে যায় আলিপুর আবহাওয়া দফতরের ওপর দিয়ে। যার বেগ ছিল ঘন্টায় ৫৮ কিমি। দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে এটি এসেছিল।

আজ সকালে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা যায় যে ঘূর্ণিঝড় ছাড়াও বাংলার বেশ কিছু অঞ্চল জুড়ে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অঞ্চল গুলি হল শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি ,মালদা ও কালিম্পং। রং বৃষ্টির পরে তাপমাত্রা 2 থেকে 4 ডিগ্রি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।


ক্রমেই শক্তি হারাচ্ছে ‘যশ’ বা ‘ইয়াস’ (Cyclone Yaas)। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড় গভীর নিম্নচাপে বদলে গিয়েছে। ওড়িশার উত্তর উপকূল ছাড়িয়ে বর্তমানে দক্ষিণ ঝাড়খণ্ডে অবস্থান তার। বৃহস্পতিবার কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দিনভর আকাশ মেঘলা থাকবে। ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে বইবে ঝোড়ো হাওয়া। বজায় থাকবে মাঝারি বৃষ্টির দাপটও।

ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’ বা ‘ইয়াস’ রাজ্যের ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি করবে, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা ছিল প্রায় সকলের। আতঙ্কে  ছিলেন প্রায় সকলেই। বুধবার নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছুক্ষণ আগে ঠিক ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ ওড়িশার (Odisha) ধামড়ায় আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়। সেই সময় প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে থাকে। সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি। দিঘায় প্রায় ৩০ ফুটের উপরে জলোচ্ছ্বাস হয়। ভেসে যায় গাড়ি। তছনছ হয়ে যায় সমুদ্র তীরবর্তী এলাকার একাধিক হোটেল। দিঘা শহরে ঢুকে পড়ে জল। ‘যশে’র প্রভাবে কার্যত তছনছ হয়ে যায় দীঘা সমুদ্র সৈকত। একই অবস্থা সন্দেশখালি, কুলতলির। সেখানে ভেঙেছে একের পর এক কাঁচাবাড়ি। আশ্রয় হারিয়েছেন অনেক সাধারণ মানুষ। ক্ষয়ক্ষতি হলেও রাজ্য প্রশাসনের তৎপরতায় প্রাণহানি অনেকটাই রোখা সম্ভব হয়েছে। আটকে পড়েছেন বহু মানুষ। ইতিমধ্যেই সেই সকল মানুষদের উদ্ধারের আর্য শুরু করে দিয়েছে রাজ্যের প্রশাসন।


আজকের আবহাওয়া :-

আবহাওয়া খবর :News18 Bangla live

বৃহস্পতিবার কলকাতা শহরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকবে। সকালের দিকে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি এবং রাতের দিকেও মাঝেমধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ইয়াসের দাপট বাংলায় সেভাবে দেখা না গেলেও, গতকাল সারাদিনই বৃষ্টি দেখা গিয়েছে বাংলার বিভিন্ন এলাকায়। আজও সেই একই সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment