CBI-র, হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চেই বুধবার নারদ মামলার শুনানিঃHigh Court Hearing Narad case with Higher bench

নারদ কান্ডে শুনানি :-  

নিউজ-বাংলা ডেস্ক(News18Bangla) :- 
রাজ্যের চার প্রভাবশালী নেতা মদন মিত্র , শোভন চট্টোপাধ্যায় , ফরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায় এর জামিন মামলার শুনানি শুরু হলো হাইকোর্টের(Kolkata High Court) পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চে। জানা যায় গতকাল মধ্যরাত্রে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন ফাইল করে সিবিআই। 

এই পিটিশনে দুটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে – 

  1. বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন কে চ্যালেঞ্জ। 
  2.  হাইকোর্টের শুনানি স্থগিত করণ । হাইকোর্টে মামলা চলা সত্বেও এমন কি দরকার পরল যে সুপ্রিম কোর্টকে মধ্যরাত্রে অনলাইনে পিটিশন দখল করল। এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে হাইকোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে । গতদিন শুনানির শুরুতেই সিবিআইয়ের কৌঁসুলি সলিসিটার জেনারেল ঊষার মিটারের উদ্দেশ্যে সেই প্রশ্ন তোলে আদালতে।

Kolkata High Court Hearing Narad case Higher  Higher bench

বৃহত্তর বেঞ্চের বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন  :- হাইকোর্টের (Kolkata High Court) ভারপ্রাপ্ত বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ থেকে বৃহত্তর বেঞ্চ এর মামলার শুনানির নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কেন আপনাদের শীর্ষ আদালতে আবেদন করতে হলো? সত্যি কি এত তাড়াহুড়ার কোন প্রয়োজন আছে? কত দীর্ঘ সময় ধরে মামলার তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই, ফলে এমন কি জরুরী দরকার পড়ল যে মামলা রাতারাতি কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যেতে হলো ।

সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটা বলেছেন যে – বৃহত্তম  বেঞ্চ এর মামলার শুনানির নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্ট মামলা বিষয়ে রেজিস্টার জেনারেল কি অবগত করা হয়েছে।

news18bangla

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়(Kalyan Banerjee) বলেছেন যে:- আমরা এখনো মামলার কোনো কপি হাতে পাইনি, এখানে কোনভাবে সিবিআই ভুক্তভোগী নয়, এখানে আমরা ভুক্তভোগী, ফলে মামলার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করেছেন সি ভি আই কর্মকর্তারা।

অভিষেক মনু সিংঘি(abhishek manu singhvi) বলেছেন যে :- রাজ্যের প্রভাবশালী দুই মন্ত্রী এবং একজন বিধায়ক ও শোভন চট্টোপাধ্যায়(sovan chatterjee) গৃহ বন্ধি রয়েছেন। আমার আবেদন মামলাটি যদি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয় তাহলে রাজ্যের সাধারণ মানুষের ভালো হবে । তিনি আরো বলেছেন যে বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আমাদের এই আবেদন।

তুষার মেহেতা(Tushar Mehta) জানিয়েছেন :- গত 17 ই মে রাজ্যের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী একজন বিধায়ক ও শোভন চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা যেভাবে প্রভাব খাটিয়েছে তাতে সিবিআই কর্মকর্তারা এ রাজ্যে তেমন সুরক্ষিত নন। পাশাপাশি মামলা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ও পরিবেশ নেই এই রাজ্যে।

অভিষেক মনু সিংঘি(abhishek manu singhvi) জানিয়েছেন :- সিবিআই কর্মকর্তাদের যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে, এর আগে কোন মামলার ক্ষেত্রে সিবিআই-এর এইরকম মনোভাব দেখা যায়নি।

বিচারপতি ইন্দ্র প্রসন্ন মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে:- সুপ্রিম কোর্টে (Kolkata High Court) মামলার শুনানি গ্রহণ করা হয়নি। তবে এখন যদি সুপ্রিম কোর্ট মামলার শুনানি নিজেদের হাতে নেয় তবে কি আপনাদের ক্ষমতা খর্ব হবে বলে প্রশ্ন করেন তুষার মেটাকে । এই প্রশ্নের উত্তরে তুষার মেটা বলেছেন যে অভিযোগ গুরুত্বপূর্ণ, রাইস শীর্ষ আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। যদি বৃহত্তর বেঞ্চ এর মামলায় উনানি হয় তবে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। 

রাজ্যের এডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত(kishore dutta)জানিয়েছেন যে:-রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে যে অভিযোগ করেছেন সলিসিটর তুষার মেটা শেটি ঠিক নয়। এই মামলায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee) এবং রাজ্যের আইন মন্ত্রি মলয় ঘটক ও কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে অভিযোগ করা হয়েছে। নিয়েও তো হাইকোর্টে জানানো হয়েছে। এবং হাইকোর্টের(Kolkata High Court)  ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না কেন, এই মামলার কপি এখনো রাজ্য সরকারের হাতে এসে পৌঁছায়নি। তাই আমি অনুরোধ করব কেন্দ্রীয়  সলিসিটর জেনারেল তুষার মিটার কোন মন্তব্য করা উচিত নয়।

news18bangla

বিচারপতি ইন্দ্র প্রসন্ন মুখোপাধ্যায়(Prasun Mukherjee) জানিয়েছেন যে :- খুব দ্রুতই রাজ্যে ইয়াস ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়তে পারে। প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিতে পারে, ফলে সুপ্রিমকোর্ট এখনো মামলার শুনানি শুরু করেনি।আগামীকাল বুধবার প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে মামলার শুনানি শুরু নাও হতে পারে এ কথা জানিয়েছেন । পেঁয়াজ অসুবিধাকোথায় এই নিয়ে প্রশ্ন চুরেছেনে তুষার মেটাকে। এই সময় মামলা শুনানি স্থগিত রাখার আবেদন জানায় সি বি আই । সেই অবদান খারিজ করল বৃহত্তর বেঞ্চ। বৃহত্তর বেঞ্চের বিচারপতিরা দ্রুত মামলার শুনানি শুনবেন বলে জানিয়েছেন।

তুষার মেটা(Tushar Mehta) বলেছেন:- সিবিআই অফিসার সামনে সাধারণ মানুষের ভিড় জমায় হয়েছে।অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদেরকে আদালতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তাই তাদের সিবিআই অফিসে রেখে ভার্চুয়াল শুনানি করা হয়েছে। মামলার কেস ডায়েরি সিবিআই আদালতে হাজির করতে পারেনি। নিজাম প্যালেস সিবিআই অফিসের সামনে এত মানুষ জমায়েত হয়েছিল যে সেখানে সিবিআই অফিসারা ভয় পেয়ে যান। এই কারণে সংবিধানের 407 নম্বর ধারা অনুযায়ী সিবিআই কর্মকর্তারা এই মামলা অন্য রাজ্যে স্থানান্তর করার দাবি জানায়।

বিচারপতি ইন্দ্র প্রসন্ন মুখোপাধ্যায় বলেছেন – রবিবার সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে। সোমবার নতুন করে কি সুপ্রিম কোর্টে কিছু জানানো হয়েছে এই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তুষার মেটাকে।

সৌমেন (soumen Sen)সেনের বক্তব্য:- সৌমেন সেন বলেছেন যে আপনারাই গত সোমবারবলেছিলেন যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা সিবিআইকে মামলার কাজে বাধা দিচ্ছে। ছাড়াও তিনি আরো বলেছেন যে মামলায় ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং আপনারা ঠিকই চাইছেন?

রাজ্যের এসি কিশোর দত্ত জানিয়েছেন- সিবিআই তাদের অফিসারদের এস্কর্ট করে আদালতে নিয়ে গিয়েছে। ভার্চুয়াল শুনানিও আপনাদের ইচ্ছাতেই হয়েছে।

news18bangla

অভিষেক মনু সিংঘি(abhishek manu singhvi) বলেছেন:- গত 17 ই মে সোমবার বিশেষ আদালতে মদন মিত্র, শোভন চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত মুখোপাধ্যায় জামিন পেলেও তাদের জামিন খারিজ হাইকোর্টে সিবিআই আবেদনে। এর পরেও তারা আজ জামিনে মুক্তি পাবে কিনা এটাই সবচাইতে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে তাদের জামিনের পরেও হাইকোর্টে তাদের জামিন স্থগিত রাখলেও আমাদের কথা শোনা হয়নি।

তুষার মেটা(Tushar Mehta) কে উদ্দেশ্য করে সৌমেন সেন জানিয়েছেন যে আপনারা মামলা অন্য রাজ্যে স্থানান্তরিত করার আবেদন জানিয়েছেন। তাহলে কেন চার অভিযুক্তদের জামিনের মুক্তির বিরোধিতা করছেন । তুষার মেটার বিরুদ্ধে বিচারপতি ইন্দ্র প্রসন্ন মুখোপাধ্যায় খতিয়ে তদন্ত করেছেন। তিনি আরো বলেছেন যে মামলা শেষ হওয়ার শেষ পর্যায়ে আপনারা আরশীর জমা দেওয়ার শেষ দিনে রাজ্যসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বিধায়ক এবং শোভন চট্টোপাধ্যায় কে গ্রেফতার করলেন? আপনারা তাদের জামিনের বিরোধিতা করতে বা এত ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন কেন ? 

অভিষেক মনু সিংভি(abhishek manu singhvi) উদ্দেশ্যে তোর পত্রি সৌমেন সেন বলেছেন যে:– আপনারা কি বলতে চাইছেন? অন্য আদালতের রায়ের কপি না দেখেই ডিভিশন বেঞ্চ মামলা স্থগিতাদেশ নির্দেশ দিয়েছিল? এবং তুষার মেটার উদ্দেশ্যে বলেছেন সিএনপিসির 407 নম্বর ধারা অনুযায়ী ক্ষমতা বিস্তৃত রয়েছে । তাতে শুধু নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিন খারিজ করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ রয়েছে। আপনারা শুধুমাত্র সেদিন ঘটনাক্রম ব্যাখ্যা করতে আদালতে এসেছিলেন।

news18bangla

অভিষেক মনু সিংভি(abhishek manu singhvi) জানিয়েছেন যে:- 17 ই মে সোমবার আদালতে মামলা চলাকালীন রাজ্যের কোন মন্ত্রীরা আদালতকক্ষে ভেতরে উপস্থিত ছিলেন না। তারা আদালতের বাইরে ছিলেন। কারণ তাদের সহকর্মীরা বন্দি ছিল সি বি আই এর হাতে। তারা এই  অভিযোক তুলেছেন যে সিবিআই যে প্রভাব খাটাতে তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন।

সিদ্ধার্থ লুথরা(sidharth luthra) জানিয়েছেন যে:- শুধু মাত্র একটি চিঠির ওপর নির্ভর করে নিম্ন আদালতের দেওয়া রাই স্থগিত রাখা হয়েছিল। অভিযুক্তদের কথা শোনা হয়নি। এই ভাবেই সেদিনের শুনানির সমাপ্ত হয়। শ্রম আদালত জানিয়েছে আগামী বুধবার ফের শুনানি জারি করা হবে

Leave a Comment